বিদায়ী সংবর্ধনায় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বলেছেন, একজন বিচারকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ক্ষমতার প্রতি নয়; তাঁর আনুগত্য কেবল সংবিধান, আইন এবং নিজের বিবেকের প্রতি।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১ নম্বর বিচারকক্ষে (প্রধান বিচারপতির এজলাস) আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত শক্তি বলপ্রয়োগে নয়; বরং বিচারবোধ, স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থায় নিহিত। তিনি বলেন, সংবিধান শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল নয়, এটি স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার। বিচার বিভাগের দায়িত্ব সেই অঙ্গীকার সমুন্নত রাখা।
তিনি আরও বলেন, বিচার প্রতিষ্ঠা করাই যথেষ্ট নয়; মানুষের কাছেও তা দৃশ্যমান হতে হবে এবং তাদের বিশ্বাস করতে হবে যে ন্যায়বিচার হয়েছে। জনগণের আস্থা রক্ষা করাই বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
বিচার বিভাগের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
বিদায়ী এই বিচারপতি বলেন, আগামী দিনে বিচার বিভাগের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। মামলার জট কমানো, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা পূরণে বিচার বিভাগকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও সেবামুখী হতে হবে।
‘বিচার বিভাগ আমাদের সবার’
ভাষণে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগ শুধু বিচারক বা আইনজীবীদের নয়; এটি বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার প্রতিষ্ঠান। সবাই যদি বিচার বিভাগকে নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনে করেন, তাহলে এর মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের উন্নয়ন ও কল্যাণে বার ও বেঞ্চ একসঙ্গে কাজ করবে।
দুই দশকের বেশি বিচারিক জীবনের সমাপ্তি
১৯৫৯ সালের ১৫ জুলাই জন্মগ্রহণকারী বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় মঙ্গলবার ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। এর মধ্য দিয়ে দুই দশকের বেশি সময়ের বিচারিক জীবনের সমাপ্তি ঘটছে।
তিনি ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট স্থায়ী বিচারপতি হন এবং ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
বিদায়ী সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনও বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের কর্মময় জীবন ও অবদান তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
