যাদেরকে ‘ফার্মের মুরগি’ বলে উপহাস করা হচ্ছে, সেই জেন-জি প্রজন্মের তরুণরাই আবাবিল পাখির মতো শক্তিশালী হয়ে শেখ হাসিনার মতো এক দানবীয় স্বৈরাচারকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। এমন মহাকাব্যিক বিপ্লব বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা কোনো বড় রাজনীতিবিদ করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবী এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরাম এই বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যাদেরকে আমরা ভেবেছিলাম তারা কিছু পারে না, কেবলই ঘরকুনো, সেই বাচ্চা ছেলেরা এক মহাকাব্যিক বিপ্লবের মাধ্যমে এমন কাজ করে দেখিয়েছে যা এ দেশের কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেনি। তাই এই জেনারেশনের দেশপ্রেম ও প্রতিভার যোগ্যতা নিয়ে কারও প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। তারা যা করেছে, তা দেখে আমাদের প্রবীণ রাজনীতিবিদদের লজ্জা পাওয়া উচিত এবং এই তরুণদের সাহসিকতা থেকে প্রবীণদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দেড় যুগের গুম, খুন ও আয়নাঘরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গণহত্যার তদন্ত করতে গিয়ে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের কাছ থেকে যে ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দেশের অসংখ্য মানুষকে কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই তুলে নিয়ে যাওয়া হতো এবং পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যেতেন।
সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে দেশকে একটি জনকল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা, আত্মবিশ্লেষণ ও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সেতাউর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক এবং শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
