দেশের সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সেতু বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সেতুর টোল মওকুফ না করার বিষয়ে সংসদে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, সেতুর টোল আদায়ের সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় নীতিমালা রয়েছে। তাই টোল কালেকশন বন্ধ করা বা কোনো সংসদ সদস্যের সুপারিশে কিংবা অনুরোধে টোল আদায় রহিত করার সুযোগ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নেই।
সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। সংসদে তিনি টোল আদায় ও উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার নানাদিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা মেম্বার অফ পার্লামেন্ট (এমপি) নির্বাচিত হয়েছি, তারা নির্বাচনের আগে নিজেদের নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ সেতুতেই টোল মওকুফের কথা বলেছি। হয়তো নির্বাচিত হওয়ার স্বার্থে ও স্থানীয় পর্যায়ে জনমত গঠনের জন্য আমরা এই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কেবল সেতু নির্মাণ ও সেতু ব্যবস্থাপনা করে। টোল আদায়ের বিষয়টি একটি সম্পূর্ণ রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়, যা দেশের অর্থ বিভাগ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় চাইলেই রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায় রহিত করতে পারে না, এমনকি কোনো সংসদ সদস্যও ব্যক্তিগত অনুরোধে তা করাতে পারেন না। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায় ব্যাহত বা বন্ধ হলে অর্থাভাবে স্বয়ং পার্লামেন্ট চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় চার লেনের সড়ক নির্মাণের দাবির প্রসঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অনেক সংসদ সদস্য ফোর লেন সড়ক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু একটি সড়ক ফোর লেন করার আগে কারিগরিভাবে ওই এলাকায় প্রতিদিন কী পরিমাণ যানবাহন চলে, যাত্রীর সংখ্যা কেমন এবং মালামাল পরিবহণের গতিপ্রকৃতি কী—এসব সূচক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।’
এ বিষয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, জেলা পর্যায়ের সংযোগ সড়কগুলোর জন্য দুই লেনের সড়কই যথেষ্ট বলে মনে করে সরকার। তবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ন্যাশনাল হাইওয়ে বা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে চার লেন করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
