প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দেওয়া এবং একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছিল।
বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতিকে দুর্বল করে দিতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার যে কৌশল রয়েছে, সাবেক সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হয়েছিল। একইভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও অকার্যকর করে অন্য একটি দেশের বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে কোটি কোটি মানুষ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—উভয় খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিতর্কিত পাঠ্যসূচি ধাপে ধাপে বাতিল করে আধুনিক, মানবিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, চলতি বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা খাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল, যাতে একটি বিশেষ দেশ চিকিৎসা বাণিজ্যে একচেটিয়া সুবিধা পায়। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
বাজেট আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শতভাগ অসুস্থ বললেও বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এ খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে চলতি বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
