যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। প্রণালিটি নিজেদের আয়ত্তে রাখতে ইরান যেমন তাদের নির্ধারিত রুটের বাইরে চলা জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, তেমনি মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও।
দুই শক্তির এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে গত ১ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতদের একটি বড় অংশই ভারতীয় নাগরিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ১৬ জন নাবিকের মধ্যে ৭ জনই ভারতের নাগরিক, যা মোট নিহতের ৪৪ শতাংশ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় এই সাধারণ পেশাদার নাবিকদের প্রাণ হারাতে হয়েছে।
এর মধ্যে গত ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মার্কিন সেনারা ‘এমটি মারিভেক্স’, ‘এমটি সেত্তেবেলো’ এবং ‘এমটি জালভির’ নামে তিনটি জাহাজে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর এই হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান। অপরদিকে, ইরানের পৃথক হামলায় আরও ৪ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়। এর মাত্র একদিন পর, অর্থাৎ ১ মার্চ ওমান উপকূলে থাকা একটি জাহাজে হামলায় প্রথম এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
দুই দেশের এই যুদ্ধকালীন বৈরী পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে চলাচলকারী প্রায় ১৮০ জন ভারতীয় নাবিক চরম মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে জানা গেছে। সমুদ্রপথের এই নিরাপত্তা সংকট বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
