বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
বুধবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দেওয়া হবে। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। এটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠনের বিষয়েও আশ্বাস পেয়েছি। এ জন্যও তাকে অগ্রিম ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি রাজধানী ঢাকার বেহাল অবস্থা, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঢাকাকে ‘দেশের মুখ’ উল্লেখ করে তিনি এ সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে নিহতদের পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ঢাকার সমস্যা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু বর্তমান সরকার বা সংসদের সৃষ্টি নয়; বরং অতীতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার ফল। বাজেটে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।
তিনি বলেন, “উন্নয়ন হয়েছে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর। এখন আমরা জনগণের উন্নয়ন দেখতে চাই, জনগণের সমস্যার কার্যকর সমাধান চাই।”
রাজধানীর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশকে মূল্যায়নের সময় সিলেট, রাজশাহী বা ময়মনসিংহ নয়, বরং ঢাকার অবস্থা দেখে ধারণা তৈরি করে। তাই দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় রাজধানীকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
