বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম, জীবন দেব, কিন্তু ‘২৪’-এর অর্জন হারিয়ে যেতে দেব না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ইতিহাসে বারবার জনগণের আত্মত্যাগের ফসল কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ছিনিয়ে নিয়েছে এবং এবারও সেই চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি ভবনের মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদকে স্মরণ করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদ ও সরকার ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের পরিবর্তন না হলে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা কিংবা সংসদ সদস্য হতে পারতেন না, একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেতেন না। তিনি বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের অবদান অস্বীকার করা হচ্ছে না, তবে ২০২৪ সালের ভূমিকা খাটো করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা। গণভোট নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোটের প্রশ্নগুলো আগে থেকেই জনগণের সামনে ছিল এবং সেগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। জনগণের সিদ্ধান্তকে অবমূল্যায়ন করা মানে পুরো জাতিকেই অসম্মান করা।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সমর্থন দিলেও এখন সেই রায় উপেক্ষার চেষ্টা চলছে। তার প্রশ্ন, “৫১ শতাংশ বড়, নাকি ৭০ শতাংশ বড়?” তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ইতিহাসে থেকে যাবে এবং সময়ই এর মূল্যায়ন করবে।
সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও আপত্তি তুলে তিনি বলেন, সংবিধানে এমন কমিটির কোনো উল্লেখ নেই। তার মতে, এটি জুলাইয়ের চেতনা ও গণভোটের ফলাফলকে আড়াল করার প্রচেষ্টা। এ কারণেই তার দল সংসদে ওয়াকআউট করেছে বলে জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
প্রতিবেশী দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে অনেকেই অপছন্দ করলেও দলটি বিদেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার ভাষায়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থনই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
