ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘লীগ ধর ম্যারাথন ২০২৬’ মূলত একটি প্রতীকী রাজনৈতিক কর্মসূচি। কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনটি ২০২৪ সালের ১৭ জুলাইয়ের ঘটনাকে স্মরণ করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বক্তব্যে দাবি করেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগমুক্ত হয়েছিল এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে গেস্টরুম, গণরুম ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি ফিরে আসতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিকভাবে এই কর্মসূচি কয়েকটি বিষয় নির্দেশ করে। প্রথমত, ছাত্রশিবির ২০২৪ সালের আন্দোলনের স্মৃতিকে নিজেদের রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির নতুন বাস্তবতায় নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি ও প্রভাব প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল অনুসরণ করেছে।
অন্যদিকে, এ ধরনের কর্মসূচি সমর্থক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক ভাষা ও প্রতীকী কর্মসূচি জনমতকে প্রভাবিত করলেও এগুলো ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সার্বিকভাবে, ‘লীগ ধর ম্যারাথন’ কেবল একটি ম্যারাথন নয়; এটি বর্তমান ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য, ২০২৪ সালের আন্দোলনের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী কর্মসূচি।
