যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যে এই প্রথম সিরিয়ার অভ্যন্তরে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শুক্রবার দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিশেষ অভিযান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টারে তারা আকস্মিক এই হামলা পরিচালনা করেছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ প্রকাশিত ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ১৯তম বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানশাহরের বাম্পুর এলাকায় নিহত ইরানি সেনাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের ১১তম ধাপে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স আল-তানফে অবস্থিত শত্রুপক্ষের বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এ হামলা চালায়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নিখুঁত এই হামলায় আল-তানফে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিও করেছে আইআরজিসি, যদিও নিরপেক্ষ কোনো সূত্র বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
একই বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানি যোদ্ধাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর তাদের আগ্রাসন ও হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্বের কোথাও এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে, এই পাল্টা হামলার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও কৌশলগত অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো এই মার্কিন হামলায় অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেওয়া। যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ থেকে নির্ভুল গাইডেড অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র ও সামুদ্রিক অবকাঠামোসহ ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, ইরানশাহর এবং বন্দর-ই খামির এলাকায় রাতভর একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের কৌশলগত বন্দর-ই খামির সড়ক সেতুতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে, যা বন্দর আব্বাসের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান সংযোগ সড়ক ছিল।
