শত্রুপক্ষের একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক গোয়েন্দা ড্রোন কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নামিয়ে আনার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই সাফল্যকে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশলের (ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার) একটি বড় ধরনের বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইআরজিসি-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শত্রুপক্ষের ড্রোনটি ইরানি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের পর তাদের রাডারে ধরা পড়ে। ড্রোনটিকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস না করে, ইরানের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেটির কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিজেদের কবজায় নেওয়া হয়। মূলত একটি ‘ডিজিটাল ড্রোন ট্র্যাপ’ বা ইলেকট্রনিক ফাঁদ তৈরি করে ড্রোনটির জিপিএস ও এনক্রিপ্টেড ডাটা লিংক সিস্টেম জ্যাম করে দেওয়া হয়, যার ফলে ড্রোনটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় মাটিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
আইআরজিসি-এর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত ড্রোনটি পুরোপুরি সক্রিয়, সম্পূর্ণ সশস্ত্র (Fully Armed) এবং সেটির অত্যাধুনিক নজরদারি সেন্সরগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। এই ড্রোনটিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা ক্যামেরা, প্রোপালশন সিস্টেম এবং যোগাযোগের গোপন কোড রয়েছে, যা এখন ইরানি সামরিক প্রকৌশলীদের হাতে চলে এসেছে।
ড্রোনটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার পরপরই সেটিকে ইরানের একটি বিশেষ সামরিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইরানি অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার ও সামরিক প্রযুক্তিবিদরা ইতিমধ্যে ড্রোনটির অ্যাভিওনিক্স আর্কিটেকচার, ডাটা লিংক প্রোটোকল এবং গোপন সেন্সর প্রযুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ (রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং) শুরু করে দিয়েছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গোপন ড্রোন প্রযুক্তির নাগাল পেয়ে গেল ইরান, যা তাদের নিজস্ব ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ড্রোনটি ভূপাতিত করার কিছু ভিডিও ও অগ্নিদগ্ধ ধ্বংসাবশেষের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় এটি পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে কি না, তা নিয়ে পশ্চিমা ও ইসরায়েলি কিছু মহলে কিছুটা সংশয় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আইআরজিসি তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে এবং এই সফল অভিযানকে ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিক থেকে শত্রুপক্ষের সামরিক বাহিনী এই ড্রোন নিখোঁজ বা আটকের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।







