রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের দীর্ঘকালীন অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে আবারও গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত ফি আদায় ও ভর্তি বাণিজ্যের পর এবার স্কুল পরিচালনা কমিটিতে নির্বাচন বানচাল করে নিজস্ব লোক দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন এবং প্রশাসনিক পদগুলোতে নিকটাত্মীয় ও অনুগতদের বসানোর নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানে আসন্ন গভর্নিং বডির সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। সাধারণ শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশের দাবি, নির্বাচন বানচাল করে তিনি নিজের অনুগত শিক্ষক এবং আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে একটি অ্যাডহক বা বিশেষ কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছেন, যাতে প্রতিষ্ঠানে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকে।
এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শাখার ইনচার্জ পদে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের আত্মীয় ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলেজ শাখার ইনচার্জ করা হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে, যিনি সম্পর্কে অধ্যক্ষের শ্যালক। প্রাথমিক শাখার ইনচার্জ পদে বসানো হয়েছে অধ্যক্ষের আপন চাচাতো ভাই ওমর ফারুক মোল্লাকে। মাধ্যমিক শাখার ইনচার্জ করা হয়েছে রেজাউল হককে, যিনি জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে অধ্যক্ষের অন্যতম অনুগত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও অধ্যক্ষের নিকটাত্মীয় শিরিন আক্তারকে প্রভাতি শাখার ইনচার্জ করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে নতুন করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি তাঁর অতীতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টিও পুনরায় আলোচনায় এসেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভর্তি, পুনর্ভর্তি ও সেশন চার্জের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বোর্ডের নির্ধারিত আসনের বাইরে মোটা অঙ্কের ‘ডোনেশন’ নিয়ে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে নিজস্ব কোচিং সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।
উন্নয়ন তহবিলের অর্থ যথেচ্ছ ব্যবহার, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব না রাখার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। একাধিক তদন্তে অতিরিক্ত ফি আদায়ের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল এবং অবৈধভাবে আদায়কৃত অর্থ অভিভাবকদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকে মূলত একটি পারিবারিক সিন্ডিকেটে পরিণত করা এবং পূর্বের অনিয়মের বিচার না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি প্রতিনিধি দল জানান, ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপে দেশের অন্যতম শীর্ষ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এসব বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাঁরা অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
