চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ওই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাতের জবানবন্দি আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করেন।
নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস জেলখানা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। একই সময়ে মামলার অপর আসামিদের পুলিশি নিরাপত্তায় সরাসরি আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।
আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এজলাসে ঘটনার নৃশংস বিবরণ দিতে গিয়ে দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট রাহাত বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ও একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর এই করুণ বর্ণনায় পুরো এজলাসে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করা শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন করার কথা থাকলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে পুনরায় অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন জানান। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আগামী ২০ আগস্ট জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীদের করা জামিন আবেদন শুনানি শেষে নামঞ্জুর করা হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে একপর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান তদন্ত শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেন।
