বাকিতে মোটর পার্টস দিতে রাজি না হওয়ায় মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনের বিরুদ্ধে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি, দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং লাশ গুম করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিলন মিয়া সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ১৮ জুলাই রাতে মো. শাহিন তাঁর দোকানে এসে বাকিতে মোটর পার্টস চান। বাকিতে মালামাল দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই সকালে আবার দোকানে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, বাকিতে পার্টস না দিলে তাঁকে মেরে ফেলা হবে এবং লাশ গুম করে দেওয়া হবে। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিলন মিয়া জানান, সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি পরিষ্কারভাবে ধারণ করা রয়েছে। ঘটনার রাতে এবং পরদিন সকালে শাহিন মোটরসাইকেলে এসে দোকানের সামনে মহড়া দেন এবং হুমকি-ধামকি দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বিষয়টি জানানো হলেও অভিযুক্ত নেতা কারও কথা তোয়াক্কা করেননি। ফলে নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শুরুর দিকে জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন অভিযুক্ত শাহিনকে নিজ কমিটির কেউ নন বলে দাবি করলেও, পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান এই শ্রমিক দল নেতা।
অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতা মো. শাহিন জানান, ব্যবসায়ী মিলনের সঙ্গে তাঁর কিছুটা বাগবিতণ্ডা হয়েছিল এবং বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
