ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সাহায্য ছাঁটাই করার একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুষ্ঠিত নাটকীয় ভোটাভুটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক গভীর পরিবর্তনের রূপ সামনে এনেছে। মার্কিন কংগ্রেসে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার প্রভাব এখন আর কেবল নির্বাচনে জয়লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তাঁদের ক্রমবর্ধমান উত্থানের মুখে নতুন মেয়াদে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে বহু ডেমোক্র্যাট সদস্য এখন প্রকাশ্যে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজনৈতিক সংগঠন ‘জাস্টিস ডেমোক্র্যাটস’-এর মুখপাত্র ওসামা আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচনে প্রগতিশীলদের বিজয় এবং ইসরায়েলপন্থি ‘এআইপিএসি’ (AIPAC) সমর্থিত শক্তিশালী প্রার্থীদের পরাজয় ডেমোক্র্যাটিক দলকে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশার প্রতি সাড়া দিতে বাধ্য করছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাট নেতারাও এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জশ গটহাইমারের মতে, মূল নীতি বা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের চেয়ে এখন প্রগতিশীল উগ্র বামপন্থি অংশের অসন্তোষ ও ভীতি থেকেই জন্ম নিচ্ছে আইনপ্রণেতাদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি অর্থায়ন বিলে রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি উপস্থাপিত সংশোধনী প্রস্তাবে সম্প্রতি ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে ভোট দেন। যদিও বিলে কোনো ধরনের কূটনৈতিক বা বেসামরিক ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়নি, তবুও গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্য কৌশলগত দ্বিমত সত্ত্বেও বহু ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট প্রদান করেন।
প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া আইনপ্রণেতারা জানান, গাজায় একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে সাধারণ আমেরিকানরা নিজেদের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলছেন। সাবেক হাউস মেজরিটি লিডার স্টেনি হোয়ার ও প্রতিনিধি স্টিভ কোহেন স্বীকার করেছেন যে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত এ ধরনের রাজনৈতিক চাপ এবং ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান প্রতিনিয়ত বাড়তেই থাকবে।
এই পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটিক হাউসের মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিকে এক নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তিনি নিজে ৯৮ জন অনুসারী সদস্যকে নিয়ে বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও দলের একটি বড় অংশ মনে করছে তিনি তৃণমূলের পরিবর্তিত মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তবে তাঁর সময়োপযোগী চিঠির কারণে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন ডেমোক্র্যাট শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে বিপক্ষে ভোট দেন, যা এক বিশাল বড় রাজনৈতিক ফাটলকে সাময়িকভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতাদের মতে, ইসরায়েলের বর্তমান কর্মকাণ্ডের দরুন সৃষ্ট এই সংকটে এই মুহূর্তে কোনো সহজ রাজনৈতিক সমাধান খোলা নেই।
