সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের করা অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও বিচারের অঙ্গীকার চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। গত সপ্তাহে দেশটির পাঠানো এই চিঠিতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় কিছু স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
ইউএই-এর চিঠিতে মূলত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ বা আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে ‘সেন্ট্রাল অথরিটি’ হিসেবে কোন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে আইনানুযায়ী উপযুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে—এমন একটি আনুষ্ঠানিক অঙ্গিকারনামাও চেয়েছে আমিরাত প্রশাসন।
এছাড়া কোন নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নাকি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় এই হস্তান্তরের আবেদন করা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ইউএই। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমিরাতের এই প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক ধাপ এবং দেশটি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করছে বলেই নথিপত্র চেয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে আমিরাতের চাওয়া তথ্য ও নিশ্চয়তার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে শীঘ্রই কূটনৈতিক চ্যানেলে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব পাঠানো হবে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আওতাধীন বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়া বেনজীর আহমেদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএমপি কমিশনার, র্যাবের মহাপরিচালক এবং পরবর্তীতে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পর তাঁর বিরুদ্ধে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে তিনি দেশত্যাগ করেন। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হলে গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে, যার পর থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
