গোপালগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ বিচারকার্য চলাকালে বিচারকের ছোড়া কাঁচের পেপারওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী মারাত্মক আহত হয়েছেন। বিচারক মো. সুজন মিয়ার আদালত কক্ষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই আইনজীবীকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আদালত চলাকালীন কক্ষের পেছনের সারিতে বিচারপ্রার্থীরা আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়া এজলাস থেকে একটি কাঁচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। পেপারওয়েটটি সরাসরি শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় আঘাত করলে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাত্ত হন।
আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এই ঘটনার পর গোপালগঞ্জের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জিপি অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুলকদর রহমান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা বিষয়টিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত বিচারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অভিযুক্ত বিচারক মো. সুজন মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
