রাজধানী ঢাকার ৪১৬তম বার্ষিকী উদযাপনে ‘ঢাকা দিবস-২০২৬: হৃদয়ে ঢাকা’ শীর্ষক ৭ দিনব্যাপী এক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ১ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবের ব্যয় নির্বাহে দেশের প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বনিম্ন ৫০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত স্পন্সরশিপ চেয়েছে সংস্থাটি।
‘আমার শহর, আমার দায়িত্ব: আমি বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসবে শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী মেলা, ম্যারাথন, কনসার্ট ও প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া চিঠিতে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে এ অর্থায়নের আহ্বান জানান ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তবে বিশ্বসেরা বাসযোগ্য শহরের সূচকে ঢাকার অবস্থান তলানিতে থাকা সত্ত্বেও কোটি কোটি টাকা খরচে এমন উৎসব আয়োজন নিয়ে জোর বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা (এমডি) এই অর্থায়নের আহ্বানে তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছেন। ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক অবস্থা দুর্বল এবং ২০২৫ সালে অধিকাংশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ৩১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী, সিএসআর তহবিল কেবল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, ৭ দিনের কোনো মেলা বা কনসার্টে অর্থায়নের আইনি বা নৈতিক সুযোগ নেই।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও ব্যাংক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা ডিএসসিসির কাজের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা দক্ষিণের অধিকাংশ সড়ক জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয় এবং নাগরিক সেবার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এই জরুরি সমস্যাগুলো পাশ কাটিয়ে ৭ দিনের আনন্দ উৎসবের জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর কোটি টাকার স্পন্সরশিপের চাপ সৃষ্টি করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অনভিপ্রেত।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান একে নৈতিকতার বরখেলাপ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, সিএসআর ফান্ডের নামে উৎসবের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে এভাবে অর্থ চাওয়া এক ধরনের অপ্রত্যক্ষ চাপ বা চাঁদাবাজির শামিল, যার হিসাব শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছ থাকে না।
অন্যদিকে ডিএসসিসির প্রশাসক জানান, ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর আইনি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, তহবিল সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর সাড়া কেমন আসে তা বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।







