রাজধানীর সবুজবাগে ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী ইব্রাহীম পলাশকে (৩২) কুপিয়ে ও দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে সবুজবাগের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা হোসেন রয়েলসহ তিনজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, স্থানীয় বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনার জেরে এক বিএনপি কর্মীর ওপর আরেক যুবদল নেতার নির্মম এই হামলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে সবুজবাগের বাগপাড়া এলাকার চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন ইব্রাহীম। এ সময় যুবদল নেতা মোস্তফা হোসেন রয়েল এবং তাঁর সহযোগী সবুজ ও শফিকসহ একদল দুর্বৃত্ত রামদা ও চাপাতি নিয়ে তাঁর ওপর হঠাৎ হামলা চালায়। ইব্রাহীম দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পিছু ধাওয়া করে গলির মধ্যে ফেলে কুপিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং বুকেও মারাত্মক আঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত ইব্রাহীম ও মূল অভিযুক্ত মোস্তফা দুজনই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইব্রাহীম সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে দলের কর্মী হিসেবে পরিচিতি পান, আর মোস্তফা সরাসরি ওয়ার্ড যুবদলের পদধারী নেতা। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে পুলিশ ও তদন্তকারীদের ধারণা, ঘটনার তিন দিন আগে একটি মুঠোফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিএনপি কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি হয়। সেখানে মোস্তফার বাবা-মাকে ইব্রাহীম মারধর করলে মোস্তফা তাঁকে হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরেকটি সূত্র জানায়, উভয় নেতাই স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী হওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং বিচার-সালিস ও মাদকের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার ও পারিবারিক মারধরের প্রতিশোধ—এসবের জেরে পরিকল্পিতভাবেই স্থানীয় যুবদল নেতা তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ইব্রাহীমকে এভাবে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সবুজবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মোস্তফাসহ তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং নিহতের বোনের করা মামলায় মোট সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোস্তফার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও চুরি, চাঁদাবাজি ও মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগে সবুজবাগ থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচ্ছিন্ন করা কবজিগুলো উদ্ধারে পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বর্তমানে অভিযান চালাচ্ছে।
