শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে একচুলও সরে আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বুধবার দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই এখন তাদের প্রধান দাবি এবং এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে দিনভর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই একমত হয়েছেন যে, সরকারের কোনো উসকানি বা চাপের মুখে না নতিস্বীকার করে আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস উপায়ে চালিয়ে যেতে হবে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও কর্মী-সমর্থকদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার প্রশংসা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না এবং সোনম ওয়াংচুকের এই ত্যাগ ও অনশন কর্মসূচি কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার যদি কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেয়, তবেই তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন ভাঙবেন।
অন্যদিক, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনি কঠোরতার পথে হেঁটেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ১৮ জুলাই থেকে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও বেআইনি সমাবেশের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৪০০ জনের বিরুদ্ধে ১০টি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছে। পাশাপাশি মুম্বইয়েও সিজেপির কর্মসূচির জেরে ১৩টি মামলা করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ও দিল্লি পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং সীমিত বলপ্রয়োগ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।







