খুলনার পাইকগাছায় বনভোজনের জন্য কেনা গরুর গোশত রান্না করতে গিয়ে অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক রং পরিবর্তনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার স্থানীয় মডার্ণ বেকারির ২৫ জন কর্মচারী একটি পিকনিকের আয়োজন করে পাইকগাছা বাজারের গোশত ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকান থেকে চার কেজি ফ্রিজে সংরক্ষিত গোশত কেনেন।
বেকারির কর্মচারীরা জানান, স্বাভাবিক নিয়মে মসলা দিয়ে গোশত রান্না শুরু করার পর শেষ পর্যায়ে এসে দেখা যায়, গোশতের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে তা অস্বাভাবিক সবুজ রং ধারণ করেছে। এরপর ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এবং বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাঁরা রান্না করা গোশতসহ কড়াইটি নিয়ে প্রথমে বিক্রেতার কাছে যান, পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় উপস্থিত হন।
তবে অভিযুক্ত গোশত বিক্রেতা ইসমাইল এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, একই ফ্রিজে থাকা গোশত তিনি অন্য আরও ১০-১২ জন ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন, কিন্তু কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তাঁর ধারণা, বেকারিতে ব্যবহূত কোনো রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবেই এমন রং পরিবর্তন ঘটে থাকতে পারে। যদিও বেকারির কর্মচারীরা রান্নায় কোনো কেমিক্যাল ব্যবহারের দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে সঠিক কারণ বের করতে নমুনা পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
রান্না করা কড়াইভর্তি সবুজ গোশতের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভিড় জমায়। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে জনমনে নানা কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, বেকারির কর্মচারীরা গোশতের কড়াই নিয়ে থানায় এলেও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না করেই কিছুক্ষণ পর গোশত দেখিয়ে কড়াই নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
