যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির মধ্যস্থতায় পাঠানো সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইরানি ও ইরাকি একাধিক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি তেহরান সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন।
প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই ছিল ওয়াশিংটনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব। তেহরান এটি প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ এতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সংকটের কোনো সুস্পষ্ট সমাধান উল্লেখ ছিল না। যদিও নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিষয়টি তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
তেহরানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল আলি আল-জাইদির প্রথম আনুষ্ঠানিক ইরান সফর। সফরে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
এ ছাড়া দুই দেশ বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করে। সফরকালে আল-জাইদি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।
সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি তেহরান বা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন।
দুই ইরানি কর্মকর্তার দাবি, এমন হামলা হলে তেহরান সরাসরি ইসরাইলের তেল আবিবকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হতে পারে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জন নিহত এবং অন্তত ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
