যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক নীতিতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত তদন্ত শেষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির জন্য এই নতুন ট্যারিফ কাঠামো প্রকাশ করে।
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত এই নতুন শুল্কহার কার্যকর করা হয়েছে। এটি সেকশন ১২২-এর আওতায় এতদিন বলবৎ থাকা সাময়িক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থার স্থলাভিষিক্ত হলো। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কহারের পাশাপাশি যুক্ত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে জায়গা পেয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অপরদিকে বাংলাদেশের প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কস্তরে রাখা হয়েছে। ফলে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা ও বাজার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
তাছাড়া বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ইউএসটিআর। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত বাংলাদেশি পণ্যে সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক ছাড় পাওয়া সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশের সার্বিক রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
