জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর চুপিসারে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আফ্রিদি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মোট আটটি মামলায় আফ্রিদির নাম রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। গত ২১ জুলাই ওয়ারী থানার একটি প্রতারণা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১ হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। অন্য দুটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় আগেই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার কারামুক্ত হন তিনি।
তবে তাঁর নামে রামপুরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও বনানী থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার আরও পাঁচটি মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বিষয়টিকে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কোনো আসামির জামিন হলে অন্য মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করার কথা থাকলেও আফ্রিদির ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। যদিও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার দেখানো বাধ্যতামূলক নয় এবং তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি পুলিশের ওপর নির্ভর করে। ডিএমপির মিডিয়া ও প্রসিকিউশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।







