ইরানে টানা দুই সপ্তাহ বিমান হামলা চালানোর পর গত দুই দিন ধরে অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ইরানের পাল্টা হামলা প্রতিহত করার কাজে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা থেকেই এই সাময়িক বিরতি নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে আয়োজিত এক বৈঠকে সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ আলোচনার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কথা চিন্তা করে হোয়াইট হাউস আপাতত বড় ধরনের আগ্রাসী পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।
এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প ইরানে হামলা জোরদার করার ইঙ্গিত দিলেও, পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই কঠোর অবস্থান পরিবর্তন করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, মার্কিন বাহিনী নতুন করে বড় পরিসরে আক্রমণ চালাতে সক্ষম হলেও এতে সেন্টকমের (CENTCOM) অধীনে থাকা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে যাবে, যা অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মতে, লাগাতার সামরিক আঘাতের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করার যে কূটনৈতিক কৌশল নেওয়া হয়েছিল, সেটির কার্যকরিতা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইরের এই হামলার ফলে ইরানের অভ্যন্তরে জনঅসন্তোষ কিংবা বিভাজন তৈরি হওয়ার বদলে সেখানকার জনগণ বিদেশি সামরিক হুমকির মুখে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে।
সার্বিক কৌশলগত ঝুঁকি ও অস্ত্র সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষার্থে গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে নতুন কোনো বিমান হামলা চালায়নি, যার মাধ্যমে অন্তত দুই সপ্তাহের টানা উত্তেজনার পর সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতি দেখা গেল।







