বিঘ্নহীন প্রস্থান ও দেশত্যাগের নিশ্চয়তা পেয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পদে থাকাকালীন সুরক্ষার আশ্বাস পেলেও রাষ্ট্রপতি পদে আসার পূর্বের কোনো কেলেঙ্কারি বা মামলার দায়ভার বিএনপি নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। বিএনপি নেতাদের মতে, দেশে অবস্থানকালে যেন তিনি অবাধে চলাফেরা করতে পারেন, এমন আশ্বাসের পরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন সাহাবুদ্দিন।
পদত্যাগের পরপরই সাবেক এই রাষ্ট্রপতি জানান, শারীরিক সুস্থতা কিছুটা ফিরে পেলেই আগামী ১০ বা ১২ দিনের মধ্যে তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে যাবেন। অন্যদিকে, স্পিকার ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন এবং আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনে তা সম্পন্ন হতে পারে।
সমঝোতার বিষয়ে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতারাও অবহিত ছিলেন বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির অপসারণে রাজনৈতিক চাপ থাকলেও একটি সম্মানজনক ও নিরাপদ বিদায়ের মাধ্যমেই তাঁকে পদত্যাগের পথ বেছে নিতে দেওয়া হয়। বর্তমানে গুলশান-১ নম্বরের ‘গ্রিন ভিলা’ নামক একটি ফ্ল্যাটে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ওঠার প্রস্তুতি চলছে এবং তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে শিগগিরই সেখানে উঠবেন বলে তাঁর দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে আইনগত সুরক্ষা পেলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পূর্বে সাহাবুদ্দিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপি নেবে না। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে দায়িত্ব পালনকালে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সঙ্গে কথিত যোগাযোগের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে। ইতোমধ্যে বিএফআইইউ-এর তদন্ত প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক দখল প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে, যা বর্তমানে আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।






