সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও স্পর্শকাতর অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মার্কিন সেনারা ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় সংরক্ষিত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং তা নিরাপদে বের করে নিয়ে আসবে। শনিবার (২৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে মার্কিন যৌথ বাহিনীর অভূতপূর্ব এই স্থলভিত্তিক বিশেষ সামরিক পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন সামরিক সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত ইসফাহান, ফোর্ডো ও নাতাঞ্জের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’-এর মতো সুবিশাল ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধারে হাজার হাজার স্থলসেনার প্রয়োজন হবে। অভিযানে অংশ নিতে পারে মার্কিন নেভি সিল টিম ৬-এর ‘সিলভার স্কোয়াড্রন’, সেনাবাহিনীর ২য় রেঞ্জার ব্যাটালিয়ন এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ২১তম অর্ডন্যান্স কোম্পানি। বিশেষ সেনাদল মাইন ও ফাঁদ এড়িয়ে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁড়ে বের করবে এবং ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ ঠেকিয়ে একটি ছোট বিশেষ দল সেখান থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার করবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা শুরুর আগে ইরানের কাছে ২০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছিল, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ উপাদানও রয়েছে। পেন্টাগনের ধারণা, ২০২৫ সালের জুনে বিমান হামলা সত্ত্বেও ইউরেনিয়ামের এই বিশাল মজুত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে এখনও অক্ষত রয়েছে। নাতাঞ্জ থেকে সরিয়ে নেওয়া শত শত সেন্ট্রিফিউজ পাশে অবস্থিত পাহাড়ি সুরক্ষিত স্থাপনায় গোপন করার পর থেকে ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল সামরিক লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ডবার্গ ও ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সিএসআইএস-এর কর্মকর্তা জোসেফ রজার্স জানান, কূটনৈতিক আলোচনা থমকে যাওয়ায় কেবল বিমান হামলা চালিয়ে এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করা অসম্ভব। ফলে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে পারমাণবিক উপাদান নিষ্ক্রিয় করাই এখন পেন্টাগনের প্রধান পথ। তবে পাহাড়ি সুড়ঙ্গগুলোতে মাইন পাতা থাকা এবং চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী বজায় রেখে পুরো টিমকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই মার্কিন বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।
