নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে মো. সামসুল আলমের নিয়োগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। ২৬ জুলাই (রোববার) প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি এই পদে একজন চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিত্বের নিয়োগকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য চরম হুমকি বলে আখ্যা দেন।
বিবৃতিতে জামায়াত মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল ভিত্তি হলো শতভাগ নিরপেক্ষতা এবং জনগণের আস্থা। কিন্তু নবনিযুক্ত অতিরিক্ত সচিব অতীতে প্রকাশ্যে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অবসরের পর দলটির নির্দিষ্ট কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে আনয়ন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম আঘাত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে কেউ পেশাগত জীবনে বঞ্চনার শিকার হলে বিধি মোতাবেক তাঁর পদোন্নতি বা প্রাপ্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অবসরের পর সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে জড়িত ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পুনরায় এই প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতিরিক্ত সচিবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এমন ব্যক্তির অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এই বিতর্কিত নিয়োগকে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে প্রচার ও উদযাপন করা হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চক্রান্তকে ইঙ্গিত করে। পরিশেষে, অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে তিনি অবিলম্বে মো. সামসুল আলমের এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং ভবিষ্যতে সব সাংবিধানিক সংস্থায় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিতের জন্য জোর দাবি জানান।







