রাজনৈতিক কোন্দল ও সংঘাতকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তার ও পদ-পদবি দখলকে ঘিরে সহিংসতা এখন চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে যে, দলীয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল বা হত্যা করতে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কোন্দলে দূরদূরান্ত থেকে পেশাদার বহিরাগত ও ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজকে গুলি করে হত্যার ঘটনার মূল লক্ষ্য ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। পুলিশি তদন্তে ও গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের অভ্যন্তরীণ পদবিকেন্দ্রিক বিরোধের জের ধরে বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহ থেকে একাধিক ভাড়াটে কিলারকে ঢাকায় আনা হয়েছিল।
একইভাবে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি এবং যুবদলের অভ্যন্তরীণ দলীয় বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই হত্যাকাণ্ডে ঢাকা ও অন্যান্য এলাকা থেকে বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে ভাড়াটে হামলাকারীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে ইতোমধ্যে পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা স্বীকার করেছেন।
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও ভাড়াটে খুনি ব্যবহারের নজির সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক সচেতন মহলে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ ধরনের নৃশংস অপরাধ বন্ধে বিএনপি পরিচয়ের আড়ালে থাকা সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা।







