শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে দুই লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদ দিয়ে নারগিস বেগম (৫৬) নামে এক বৃদ্ধাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একাধিক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ছয়গাঁও ইউনিয়নের সাবেক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মোল্লার ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার খোয়া যায়। এ ঘটনায় চুরির সন্দেহ করে আবুল শেখের স্ত্রী ও ছয় সন্তানের জননী নারগিস বেগমকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান আনোয়ার মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা। পরে দুই হাত ধরে আটকে রেখে তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি ওই বৃদ্ধার হাত ধরে শক্ত করে চেপে রেখেছেন এবং অন্য এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছেন। মারধরের মুখে বারবার আকুতি জানিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও হামলাকারীরা থামেনি। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী নারগিস বেগম ও তাঁর ছেলে গোলাম রাব্বি জানান, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একজন অসুস্থ বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক তুলে এনে এ ধরনের বর্বর নির্যাতন করা হয়েছে। পরিবারটির এক সন্তান প্রবাসে থাকেন উল্লেখ করে স্বজনরা জানান, চুরির কোনো প্রয়োজন বা ঘটনা তাঁদের ছিল না। তাঁরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লা আত্মগোপনে থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভেদরগঞ্জ থানার ওসি আবুল বাসার জানান, খবর পেয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
