সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিএনপি সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে বিপরীতমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগগুলো আমলযোগ্য নয় বলে উড়িয়ে দিলেও, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই শীর্ষ মন্ত্রীর এই দুই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানান, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগে আমলে নেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি বলেন, শারীরিক কারণেই সাবেক রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে তিনি সাংবিধানিক বিধিবিধান অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ও বিশেষ সুবিধার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফৌজদারি অপরাধেও রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা বা পদক্ষেপ নেওয়ার অবকাশ নেই এবং তিনি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থানের ঠিক বিপরীত সুরে একই দিনে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন।
সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ দুই নীতি-নির্ধারকের কাছ থেকে আসা ভিন্নমাত্রিক মন্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এসব দাবিকে সাংবিধানিক দায়মুক্তির কথা বলে সাধারণ বক্তব্য হিসেবে গণ্য করছেন, অন্যদিকে আইনমন্ত্রী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দোহাই দিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের বার্তা দিচ্ছেন। একই ইস্যু নিয়ে বিএনপি প্রশাসনের দুই মন্ত্রীর এই দুই ধরনের কথা সরকার ও দলের অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গির অমিলকেই দৃশ্যমান করে তুলেছে।
