পালাবদলের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দাবি করা হচ্ছে, পরবর্তী ৭২১ দিনের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০টি ধর্ষণের ঘটনা বা অভিযোগ সামনে এসেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই হিসাব অনুযায়ী গড়ে প্রতি সাত দিনে অন্তত একটি করে ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে। দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতি থেকে অনুমিত হচ্ছে যে, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক এ জাতীয় গুরুতর অপরাধের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা ব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
প্রশাসনের এমন ঢিলেঢালা ভূমিকা ও দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কঠোরতার অভাব নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, বিএনপি কিংবা যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে এসব স্পর্শকাতর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
