রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ (৪৫) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মাগুরার শালিখা এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান রাজু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি শালিখা উপজেলার শতখালি গ্রামের আনোয়ার পাটোয়ারীর ছেলে এবং এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর বাসার কাছের একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই ইউসুফ আলী পারভেজ প্রাণ হারান। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, ইউসুফ এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন না; মূলত হাফিজুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে চলাফেরা করার কারণেই তিনি এই সহিংসতার শিকার হন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহতের বড় ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর পর স্থানীয় জনতা চঞ্চল নামে এক হামলাকারীকে ধাওয়া দিয়ে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। চঞ্চলকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, কাফরুলের আধিপত্য ও রাজনৈতিক বিরোধ কেন্দ্র করে মাগুরা-ঝিনাইদহ অঞ্চল থেকে চারজনের একদল পেশাদার কিলার ভাড়া করা হয়েছিল। চঞ্চলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) ও শালিখা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শতখালি গ্রাম থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে।
আটক রাজুকে নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ছবিতে তাকে মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান চকলেটসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা গেছে; অন্য একটি ছবিতে তাকে একটি বাগানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতেও দেখতে পাওয়া যায়।
তবে রাজুর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান চকলেট জানান, ২০১৪ সালে কারাভোগের সময় রাজুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তিনি বলেন, রাজু মূলত এলাকার সন্ত্রাসী এবং বিএনপির কোনো পদে সে নেই; কেবল একটি ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তোলা ছবির সূত্র ধরে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা ডিবি পুলিশ কাফরুল থানার হত্যা মামলায় রাজুকে মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। মামলাটির চূড়ান্ত তদন্ত এবং অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
