যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় বিএনপির একটি দলীয় সভার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুকে মাইক্রোফোন হাতে আগামীকালের ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায়। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, কোনো জামায়াত কর্মীকে পরীক্ষা কেন্দ্র বা মণিরামপুর উপজেলা মাঠে দেখা গেলে তাঁর হাত-পা ভেঙে হাসপাতালে পাঠানো হবে।
মিন্টুর দেওয়া এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয় এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে কড়া আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তোলে। বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভিডিওর নিচে মন্তব্য করেন ১১ নম্বর চালুয়াহাটি ইউনিয়ন যুব বিভাগের সেক্রেটারি এনামুল হক। তিনি লেখেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের দেওয়া একটি সেবা যা জনগণের ট্যাক্স ও ভ্যাটের টাকায় পরিচালিত হয়, কোনো রাজনৈতিক নেতার পৈতৃক সম্পত্তিতে নয়। ফলে দেশের নাগরিক হিসেবে সকলেরই এই সুবিধা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ফেসবুকের এই গঠনমূলক মন্তব্যের জের ধরে পরের দিনই ২০ থেকে ২৫ জনের একদল সশস্ত্র লোক রাজগঞ্জ বাজারে অবস্থিত এনামুল হকের ব্যবসায়িক শোরুমে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় শোরুমের ভেতরে থাকা এনামুল হকসহ তাঁর সাথে অবস্থানরত আরও একজনকে বেধড়ক মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই উসকানিমূলক বক্তব্য এবং তার জেরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলার ঘটনায় মণিরামপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এই হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এবং জড়িতদের মন্তব্য কিংবা প্রশাসনিক কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।







