রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদমাধ্যমের খবরের কড়া প্রতিবাদ উঠেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় দাবি করা হচ্ছে, ঘটনায় আহতদের ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে রাকসু প্রতিনিধি ও ছাত্রশিবিরকে বিতর্কিত করার অসৎ চেষ্টা করা হচ্ছে। মূলত ভুক্তভোগী পরিচয়ে থাকা এই ব্যক্তিরা পূর্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় ক্যাডার ছিল এবং মারধরের শিকার হওয়ার কিছু আগেই তারা রাকসু ভবনে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল।
আলোচিত এ ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আনাসকে কেন্দ্র করে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের আগে আনাস ক্যাম্পাসে একজন সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল। অভিযোগ উঠেছে, সাম্প্রতিক সময়ে আনাস এবং ছাত্রলীগের সাবেক একনিষ্ঠ কর্মীদের একটি বড় অংশ ছাত্রদল নেতা শাফিন আজমীরের বলয়ে যোগ দিয়ে তার ছত্রছায়ায় নতুন করে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক নেতা গালিবের সাবেক অনুসারীদের বর্তমান সময়ে ছাত্রদল নেতা শাফিন আজমীরের ক্যাডার হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ফলে রাকসু ভবনে হামলার পর তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে ছাত্রলীগের পলাতক নেতা ও বর্তমান ছাত্রদল নেতা—উভয় পক্ষ থেকেই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যাকে কোনো কাকতালীয় বিষয় নয় বরং সুসংগঠিত সিন্ডিকেট হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, কোনো সাধারণ নিরীহ শিক্ষার্থীর ওপর এই হামলা পরিচালনা করা হয়নি। মূলত রাকসু ভবনে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো উগ্র ক্যাডারদেরই সাধারণ শিক্ষার্থীরা যথাযথ জবাব দিয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী পরিচয়ে সক্রিয় থাকা এসব বহিরাগত ও দুর্বৃত্তদের অপরাধকে কোনোভাবেই সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে ঢেকে রাখা যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
