ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক জল্পনা-কল্পনা মূলক আলোচনাকে দল টিকিয়ে রাখার স্রেফ একটি রাজনৈতিক কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। এই ধরনের আলোচনার বাস্তবে কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান, রক্তপাত ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা তো দূরের কথা, রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়াও অসম্ভব।
সোমবার (২৭ জুলাই) ভোলায় নদীভাঙনকবলিত এলাকা, সরকারের খাল খনন কর্মসূচিসহ সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে পার্থ বলেন, বিপ্লবের সেই দিনগুলোতে রাজনৈতিক নেতারা রিমান্ডে নিগৃহীত হয়েছিলেন। ফলে বর্তমান সাধারণ মানুষের মানসিকতা ও জুলাইয়ের চেতনাকে এড়িয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্র বা মিথ্যা আশ্বাসের স্থান হবে না।
রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান ছাড়াও তিনি ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল এলাকায় মেঘনার তীব্র নদীভাঙন পরিস্থিতি সরজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় সরকারি বাজেট ও প্রকল্প বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হবে।
পরবর্তীতে এমপি পার্থ সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচির কাজের অগ্রগতি দেখতে যান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন যে, খাল খননের ক্ষেত্রে মাঝের অংশ বাদ দিয়ে কেবল দুই পাশের মাটি কেটে দায়সারা কাজ করা হয়েছে।
জনগণের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য পার্থ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে কাজের শতভাগ স্বচ্ছতা যাচাই ছাড়া ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ না করার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের খাল খনন বা যেকোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, ভোলা-১ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ, ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
