সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে থানা ফটকে বিএনপি নেতাকে মারধরের পৃথক দুটি মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আজাদ হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে নিজ নিজ বাসভবনে অভিযান চালিয়ে উল্লাপাড়া থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ইত্তেফাকের সূত্র অনুযায়ী, মামলার অন্য এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্য নেতাকর্মীরা হলেন—যুবদল নেতা মো. আশিক, রবিউল ইসলাম, শাহাদত হোসেন, মো. আব্দুল মোমেন এবং শ্রমিক দল নেতা মমতাজ আলী। স্থানীয় উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই পঞ্চকোশী ইউনিয়নের মাটিকোড়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে অভিযুক্তরা। তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে গত শনিবার সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী আলমগীরের ভাই তথা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম মিষ্টার থানায় যান। তবে থানা গেটেই তার ওপর পুনরায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এসব হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন ও তার ভাই জাহিদুল ইসলাম মিষ্টার বাদী হয়ে উল্লাপাড়া থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে রাতে অভিযানে নামে।
এদিকে বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম মিষ্টারের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১২টায় শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে উল্লাপাড়া শহীদ মিনার পাদদেশে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয় এবং সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা অবিলম্বে এলাকায় সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং গ্রেপ্তারকৃতসহ অন্য হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
