ইলেকশন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা মো. সামসুল আলমকে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ২০১৮ সালে অবসরে যাওয়া এই কর্মকর্তা গত বছর বিএনপির আসন পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে আরও ১১টি সরকারি কোম্পানি, করপোরেশন ও সংস্থায় বিএনপির পদধারী নেতাদের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করে ইসিতে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকে নিয়োগের বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি এই নিয়োগকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর সুদূরপ্রসারী চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তা অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এই সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারি নির্বাহী বিভাগ অন্য প্রতিষ্ঠানে যাকে ইচ্ছা নিয়োগ দিতে পারলেও নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা। সেখানে দলীয় ব্যক্তিকে বসানো মানে প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ধ্বংস করা এবং নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট করে দেওয়া।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের তথ্য অস্বীকার করে অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলম দাবি করেন, তিনি কোনো দলীয় পদে ছিলেন না, বরং বিগত সরকারের সময়ে ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলায় তিনি চরম বৈষম্য ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছিলেন। আগামীতে কাজের মাধ্যমেই নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বিতর্কিত এই চুক্তিতে নিয়োগ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্নমত ও ধোঁয়াশা লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মতে, বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভূতপূর্ব পদোন্নতি ও বকেয়া সুবিধা দেওয়া যেত, কিন্তু সরাসরি দলীয় পদে থাকা ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বসানো সম্পূর্ণ অনৈতিক ও নজিরবিহীন দলীয়করণ।







