যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এমপি গোলাম রসুলের মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যার বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া আচরণ’ ও সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মারধরের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার, যখন স্থানীয় আল মাদ্রাসাতুল শারইয়্যাহর এক শিশু শিক্ষার্থী ও রেক্সনা নামের এক নারীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে অনন্যার বিরুদ্ধে। রাতে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে অনন্যা ফের মাদ্রাসায় গিয়ে তা বন্ধের নির্দেশ দিলে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা একজোট হয়ে এমপির বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালায় এবং ঢিল ছুড়ে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনার জেরে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া উইং এবং এমপির পরিবার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ খণ্ডন করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এমপির মেয়ে অনন্যা দীর্ঘদিন ধরে ‘সিজোফ্রেনিয়া’ নামক গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত এবং তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ করে দাবি করা হয় যে, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ইন্ধনে মানসিক অসুস্থ এক নারীকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘মব’ উসকে দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এমপি গোলাম রসুল এক ভিডিও বার্তায় ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তার অসুস্থ মেয়ে কেবল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কের যানজট ও ভিড় নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল, যার জেরে অনন্যাকেও মারধর করা হয়েছে। তিনি সকলকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আসার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মাসুম খান।
