জুলাই অভ্যুত্থানে স্নাইপার কিংবা ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের গুলির ব্যবহার ইতিমধ্যেই প্রমাণিত এবং এটি তদন্তের বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, ৭ দশমিক ৬২ মিমি বুলেট নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের গুলি কোনো রহস্যময় বা বিশেষ অস্ত্রের নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবহৃত চীনা ‘টাইপ-৫৬’ রাইফেলে এই ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করা হয়ে আসছে। টাইপ-৫৬ মূলত একটি সামরিক মানের রাইফেল, যা প্রথমে সেনাবাহিনী, পরে বিজিবি এবং পরবর্তীতে পুলিশের কাছেও দেওয়া হয়।
উপদেষ্টা জানান, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি অসত্য বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল যে আন্দোলনকারীরাই নাকি স্নাইপার দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। তবে বাস্তবতা হলো, সাধারণ জননিয়ন্ত্রণে স্বল্প-পাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের কথা থাকলেও পুলিশের হাতে ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত কার্যকর পাল্লার এই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দীর্ঘ-পাল্লার অস্ত্র ছিল এবং তারা সেটি ব্যবহার করেছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, কোনো অজ্ঞাত বা রহস্যময় স্নাইপার এসে দূর থেকে গুলি চালিয়েছে—এ ধরনের প্রচারণার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, কারণ পুলিশ ও বিজিবির কাছেই ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহারকারী রাইফেল ছিল এবং তা ব্যবহারের ছবি ও ভিডিও প্রমাণও রয়েছে। তাই এই ক্যালিবারের বুলেটকে কেন্দ্র করে স্নাইপার তত্ত্ব ছড়ানোর মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি না করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব অস্ত্রের ব্যবহারের বিস্তারিত তদন্ত সম্পন্ন হবে।
