প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে চাপের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আসাম ও বিহার সরকার ইতোমধ্যে একই ধরনের সব মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গও শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে বলে রাজ্য সচিবালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে।
গত শুক্রবার কলকাতার এসপ্ল্যানেডে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকা সমাবেশে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
সোমবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি জানায়, কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি। অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা দিতে দেশজুড়ে আইনজীবীদের নিবন্ধনের জন্য একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়। এ উদ্যোগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসাম ও বিহার সরকার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুক্রবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। সচিবালয়ের সূত্র বলছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
এদিকে সোমবার জলপাইগুড়ির এক সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দলীয় নেতাকর্মীদের তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
শুক্রবারের সহিংসতার ঘটনায় কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ বা কথিত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা আইন’-এর আওতায় এসব মামলা করা হয়।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুরের অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে মিছিল শেষে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এসপ্ল্যানেডের ডোরিনা ক্রসিংয়ে জড়ো হলে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন ‘অ্যান্টি-গুন্ডা আইন’ প্রথমবারের মতো এই ঘটনায় প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনায় জড়িতদের এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে যাতে তার প্রভাব দীর্ঘদিন মনে থাকে।
সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস







