২০২৪ সালের ২৮ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কদের মাধ্যমে আন্দোলন প্রত্যাহারের এক জবরদস্তিমূলক ঘোষণা দেওয়ানো হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের চাপের মুখে ডিবি কার্যালয় থেকে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বাকের মজুমদার এক ভিডিও বার্তা ও যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা জানান। সরকার দাবি মেনে নিয়েছে—এমন অজুহাতে সমন্বয়কদের একাংশ আন্দোলন থামানোর পক্ষে থাকলেও তা মেনে নেয়নি ক্ষুব্ধ সাধারণ ছাত্রসমাজ।

বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘ছাত্রহত্যার লাশের বদলা’ এবং “তোর কোটা তুই নে, আমার ভাইকে ফিরিয়ে দে” স্লোগানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ডিবি অফিস থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের সেই নাটকের পরপরই মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকে আরও তীব্র ও সুসংগঠিত করতে উদ্যোগী ভূমিকা নেয় তারা।
এই প্রেক্ষাপটেই উঠে আসে ঐতিহাসিক ৯ দফার গল্প। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের পরবর্তীতে জানান, সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও কারফুর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি ফরহাদের সঙ্গে আলোচনা করে বহুল আলোচিত ৯ দফা দাবি তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যম, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় এই ৯ দফা পৌঁছে দেন।
৯ দফার ধারাবাহিকতায় আন্দোলন যখন এক দফার দিকে মোড় নেয়, তখন এর নেপথ্য রূপরেখা প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন মাহফুজ আলম ও বর্তমান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। মাহফুজ আলমের পরামর্শে সাদিক কায়েম এক দফায় রূপান্তরের মূল খসড়া ও অসহযোগ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ছাত্রজনতার সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয়।







