রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে চারজনের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার। ডিএমপির তথ্যমতে, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজুর রহমানের মাধ্যমে কালীগঞ্জের হাসান আলী তিন শুটার ও সন্ত্রাসী ভাড়া করে এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামিরা ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের অনুসারী ও কর্মী ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য কলকাতায় নিহত হওয়ার পর অভিযুক্ত হাসান আলী তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এমনকি চলতি বছরের মে মাসেও তাঁর সঙ্গে ডরিনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া হত্যায় জড়িত অন্য আসামি জিহাদ মোল্লা ও পলাতক চঞ্চল মোল্লাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এলাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি শুটার হিসেবে অংশ নেওয়া অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দল পরিবর্তন করেন। এরপর থেকে তাঁকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। স্থানীয় যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশ এবং বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলামের মিছিলে মাসুম বিল্লাহর অংশগ্রহণের একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ বিএনপির কোনো পদে নেই এবং তিনি তাঁদের কর্মী নন; রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভিড়ের মধ্যে অনেকে এসে হাত মেলালে তা মনে রাখা সম্ভব হয় না। পুরো ঘটনার বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন অপারেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
