খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সিংহভাগ ঠিকাদারি কাজ প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন (আরএফকিউ) বা কোটেশন পদ্ধতিতে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ উঠেছে। জরুরি মেরামতের নামে দেওয়া ৪২টি ঠিকাদারি কাজের নথি ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেসিসির প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী। এছাড়া আরও ৩৭টি প্যাকেজের কাজ কার্যাদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র এড়াতে বড় কাজকে কৃত্রিমভাবে ভাগ করে পাঁচ লাখ টাকার নিচে ছোট প্যাকেজে রূপান্তর করা হয়েছে। এমনকি নোটিশ বোর্ড বা ওয়েবসাইটে কোটেশন আহ্বান না করে গোপনে দলীয় নেতাদের কাজগুলো দেওয়া হয়। যেখানে সাধারণ টেন্ডারে ৫ থেকে ১০ শতাংশ কম দরে কাজ সম্ভব ছিল, সেখানে মাত্র আধা শতাংশ কম দরে কার্যাদেশ দেওয়ায় সংস্থাটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। যদিও সুজনের জেলা সভাপতি এটিকে স্বার্থের সংঘাত হিসেবে দেখছেন, তবে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দাবি করেছেন, কাজগুলো দ্রুত শেষ করতেই পিপিআর মেনে এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে বাস্তবে কাজগুলো সম্পাদন করছেন মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ। যেমন—মতিয়াখালী খালপাড় সড়কের কাজ যুবদল নেতা নাজমুল হাসান নাসিম, টুটপাড়ার মসজিদ লেনের কাজ ছাত্রদল নেতা তানভীর ইসলাম অয়ন ও জি এম রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী এবং লিনিয়ার পার্কের পৌনে ১০ লাখ টাকার সীমানাপ্রাচীর দুই ভাগ করে যুবদল নেতা মাহাবুব হাসান পিয়ারুকে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কেসিসির পূর্ত শাখায় প্রতিদিন বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় ও তদবিরের কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক দাপ্তরিক কাজ স্থবির হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তাঁদের মতে, প্রশাসকের মৌখিক নির্দেশনায় একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিই তিনটি ভিন্ন লাইসেন্সে দরপত্র সাজিয়ে জমা দিয়ে কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন। তবে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু একে অপ্রয়োজনীয় কাজ নয় দাবি করে বলেন, ছোট ঠিকাদাররা অন্যের লাইসেন্সে কাজ করলেও তাঁরা রাজনীতির সাথে জড়িত বলেই কাজ পেয়েছেন—বিষয়টি তেমন নয়।
