পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সাথে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও এবং ছবিকে ‘এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কন্টেন্ট’ দাবি করে মূলধারার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, ‘শিবির মিডিয়া সেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এসব ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলা বিএনপিও এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে যে প্রতিমন্ত্রীর নামে ছড়ানো কন্টেন্টগুলো পুরোপুরি এআই-নির্মিত।
তবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী যাচাইয়ে জানা গেছে, সংগৃহীত উচ্চ রেজুলেশনের ছবি ও ভিডিওগুলো একাধিক এআই ডিটেকশন টুলে পরীক্ষা করেও এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভাইরাল হওয়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটে থাকা বাংলাদেশি মোবাইল নম্বরটির বিকাশ অ্যাকাউন্ট পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক তরুণীর নামে নিবন্ধিত, যা প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের নিজ গ্রামেই অবস্থিত। ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তরুণী ছবিতে থাকা নারী নিজেকে বলে নিশ্চিত করলেও ছবি ছড়ানোর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
অনুসন্ধানের প্রক্রিয়ায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই তরুণীর সাথে গণমাধ্যমের প্রতিবেদকের কথা হওয়ার মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে রাত ১০টায় প্রতিমন্ত্রীর সরকারি মোবাইল নম্বর থেকে প্রতিবেদকের নম্বরে কল আসে। পরবর্তীতে ওই নম্বরে ফোন করা হলে প্রতিমন্ত্রীর তরফ থেকে সরাসরি বক্তব্যের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দেখা করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ছবিতে দেখা যাওয়া মোবাইল কভারের সাথে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যবহৃত মোবাইলের কভারের হুবহু মিল এবং ওই নারীর সাথে প্রতিমন্ত্রীর পূর্বপরিচয়ের একাধিক সূত্রের তথ্যও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর টেক্সট ও গঠন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলধারার একাধিক জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন অনলাইনে প্রায় একই সময়ে প্রকাশিত সংবাদগুলোর বহু অনুচ্ছেদ ও বাক্য হুবহু এক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে আলো-ছায়ার অসামঞ্জস্য ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা বলা হলেও, গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত সেই যুক্তির বিপরীতে তথ্য-প্রমাণ ও টেক্সটের ব্যাপক হুবহু মিল পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও অসঙ্গতি তৈরি করেছে।







