যশোর জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ প্রফেসরপাড়া এলাকার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও তাঁকে অবরুদ্ধ করার ঘটনাটির অবশেষে শান্তিপূর্ণ সুরাহা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ বৈঠকে প্রশাসন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যকার আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিরসন করা হয়।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ঘটনাটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। বৈঠকে উভয় পক্ষই সব অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়ে বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। এছাড়া এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবির মুখে মাদরাসার সামনে দ্রুত একটি স্পিড ব্রেকার এবং একটি বসার শেড তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
সংসদ সদস্যের পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তৈরি হওয়া এই অসন্তোষের পেছনে পারিবারিক কারণ রয়েছে বলে জেলা প্রশাসক জানান। এমপি গোলাম রসুলের মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় (সিজোফ্রেনিয়া) ভুগছেন এবং এই বিষয়ের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যেই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। বৈঠকে উভয় পক্ষই নিজ নিজ ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে সবাই মিলে কাজ করার অঙ্গীকার জানান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রায় ১২ ঘণ্টা নিজ বাসায় অবরুদ্ধ ছিলেন। কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক তাঁর বাসার গ্লাস ও গেট ভাঙার চেষ্টা করলেও এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, চাইলে হাজারও নেতাকর্মী ডাকতে পারতেন, কিন্তু সাধারণ জনগণ বা কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো সংঘাত চাননি বলেই ধৈর্য ধরেছেন এবং সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
সংকট নিরসনে স্থানীয় মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন এবং প্রশাসনের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন সংসদ সদস্য। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষের দাখিল করা আবেদন ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে আইনগত প্রক্রিয়ার সুরাহা করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
