আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি দেশে ফিরলে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে কেউ কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়। তিনি বাংলাদেশের আইনগত এখতিয়ারের আওতায় এলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “তিনি কীভাবে আসবেন, সেটা তার বিষয়। কিন্তু আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে প্রবেশ করলে আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই সংসদের পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা সরকার দেখছে না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে।
মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ এলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, “তারা যদি কোনো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ করে থাকে, তাহলে আমাদের দায়িত্ব সেটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করা। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করব এবং প্রয়োজনীয় দিকগুলো খতিয়ে দেখব।”
এর আগে আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ)-এর মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
