‘সব রাজনৈতিক দলকে বশে আনতে পারলেও জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায়নি’—এক সাবেক প্রতিমন্ত্রীর এমন উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আধিপত্যবাদ মেনে না নেওয়াই ছিল তাঁদের দলের একমাত্র অপরাধ। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পেছনেও অন্যায়ভাবে জামায়াতকে দায়ী করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনের কাউন্সিল হলে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর জামায়াতের উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। উত্তর ও দক্ষিণের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল।
জুলাই আন্দোলনে দলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুরুর দিন থেকেই জামায়াত ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পর দলটি কখনো একক কৃতিত্ব দাবি করার নোংরা প্রতিযোগিতায় নামেনি। যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের সিংহভাগই ছিলেন সাধারণ প্রান্তিক মানুষ—যাঁদের নিজস্ব কোনো কোটা বা সরকারি চাকরির লোভ ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের জন্যই তাঁরা রাজপথে আত্মাহুতি দিয়েছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক-বিমাসহ প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখন নির্লজ্জ দলীয়করণ চলছে। দেশপ্রেমিক ও যোগ্য মানুষদের সরিয়ে দুর্নীতিগ্রস্তদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করা হচ্ছে। এক দলকে সরিয়ে অন্য দলকে বসানোর জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি, তাঁরা সম্পূর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিল।
সরকারের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছেন।’ জুলাই শহীদদের বিচার এবং আহতদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে জামায়াত কখনো পিছিয়ে আসবে না মন্তব্য করে তিনি স্পষ্ট জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে জামায়াত আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না এবং দেশের স্বার্থে কথা বলা থেকে কেউ তাঁদের থামিয়ে রাখতে পারবে না।
