রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২৭ জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে নামিয়ে মারধরের শিকার শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বিরসহ নয়জনকে নামীয় এবং আরও ১৭-১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজশাহীর মতিহার কগনিস্যান্স আদালতে মাহিনের বাবা এম এস আসাদ উজ জামান এ আবেদন করেন। তবে আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে না নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
মামলায় নামীয় অন্য আসামিরা হলেন নাজমুস সাকিব, মেহেদী সজীব, ফাহিম রেজা, আরিফুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফারহান, সিফাত আবু সালেহ এবং নুরুল ইসলাম শহীদ। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাবির সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিনের ওপর হামলা, মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বিস্তারিত উল্লেখ করে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই প্রক্টর দপ্তরের বিরোধকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মাহিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিলে আসামিরা সেখান থেকে টেনে নামিয়ে দ্বিতীয় দফায় শারীরিক নির্যাতন চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মতিহার থানা পুলিশ পূর্বে এ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে বাধ্য হয়েই আদালতে হাজির হন বাদীর পরিবার।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হযরত আলী জানান, আদালত আরজুটি পর্যালোচনা করে পিবিআইকে সার্বিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আহত শিক্ষার্থী মাহিন নিজেও বর্তমানে একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে জানান ওই আইনজীবী। দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা ওই দিনের লাইব্রেরি চত্বরের হামলা ও অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে মারধরের সার্বিক ঘটনা এখন পিবিআই তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন করবে।
