হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর (১৯) চোখের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে সফল অস্ত্রোপচারের পরও তাঁর আঘাতপ্রাপ্ত বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, তরুণ এই সংগঠক তাঁর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) আলিফের এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘নারী শক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আলিফের বাম চোখটির দৃষ্টি ফেরানো সম্ভব না হলেও ডান চোখটি ভালো রয়েছে। বর্তমানে তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে (পোস্ট অপারেটিভ অবজারভেশন) রাখা হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের পূর্বমুহূর্তের স্মৃতি ও আলিফের অসামান্য সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে মনিরা শারমিন ফেসবুকে লেখেন, হাসপাতালের আইনি বন্ডে সই করার সময় আলিফের পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। দৃষ্টিশক্তি হারানোর মারাত্মক ঝুঁকির কথা জেনেও ১৯ বছরের এই তরুণ বিন্দুমাত্র ভীত হননি। অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজেই বন্ডে স্বাক্ষর করে অস্ত্রোপচার থিয়েটারে প্রবেশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ চলাকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় রডের আঘাতে গুরুতর আহত হন আলিফ। চোখের ভেতরে তীব্র আঘাত নিয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পাহাড়সম সাহস ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেওয়া এই উদীয়মান সংগঠকের দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সহযোদ্ধাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
