হবিগঞ্জের পর এবার সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে পরপর দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেটের গোলাপগঞ্জ এবং পরবর্তীতে পাঁচ মাইল বাজারে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলার পর সিলেট জেলা সার্কিট হাউসে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ ও তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সার্কিট হাউসে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর সরাসরি হামলা চালিয়েছে। তারা “জিয়ার সৈনিক এক হও” স্লোগান দিয়ে আমাদের গাড়িবহরে রড, ইট ও পাথর ছুড়ে মারে।’ গত ১৬-১৭ বছরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যর্থ হলেও এখন সাধারণ কর্মসূচিতে এমন আগ্রাসী ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তারেক রহমানের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘সরকার দেশকে এক সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে রূপান্তর করছে এবং তাদের প্রকৃত চরিত্র আজ জাতির সামনে স্পষ্ট।’ সরকার যদি সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়, তবে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে প্রতিরোধের পথ বাঁধার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সাথে গণভোটের গণরায়, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও বিচারের দাবিতে তাঁদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
হামলার ঘটনার পর নির্ধারিত কানাইঘাটের পদযাত্রা কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ না নিয়ে সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রথমে সিলেট সার্কিট হাউজে যান। পরে বিকেল পৌনে ৪টায় ব্রিফিং শেষ করে তাঁরা পুনরায় কানাইঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার সম্রাট তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এনসিপির নেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।







